বৃহস্পতিবার, ৫ জুন, ২০২৫

জগন্নাথ মন্দিরের আসল রহস্য

পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের আসল রহস্য


এক এমন মন্দির, যা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মানুষের মনে বিস্ময়ের সৃষ্টি করেছে। বারংবার শত্রুদের আক্রমণ এবং লুটপাটের পরেও এই মন্দির আগের অবস্থাতেই রয়েছে। বিজ্ঞানীরা যখন জানতে পারে যে ভারতে এরকম একটি মন্দির আছে, তারা নানানভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা শুরু করে। কিন্তু এক সময় তারা যে জিনিস খুঁজে পায় , এর ফলে রীতিমত ভয় পেয়ে যায়। কি রয়েছে এই জগন্নাথ মন্দিরের আড়ালে ?     আপনাদের প্রিয় "পুরাণ কথা অফিসিয়াল" এর আজকের বিশেষ নিবেদন - জগন্নাথ পুরীর 10 টি অমীমাংসিত রহস্য 

 পুরী মানেই উত্তাল সমুদ্র , যার মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে হাজারো অজানা কথা। পুরী বেড়াতে এসেছেন অথচ জগন্নাথ দেবের দর্শন করেননি , এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। প্রত্যেকদিন দেশ-বিদেশ থেকে অসংখ্য ভক্তের সমাগম ঘটে এই মন্দিরে। শুধু কি পৌরাণিক মাহাত্ম্য ? না তার সঙ্গে রয়েছে এমন কিছু রহস্যময়তা, যা প্রাচীনকালের শত্রু থেকে শুরু করে আধুনিক যুগের বিজ্ঞানীদেরও নতমস্তক করেছে। জগন্নাথ শব্দের অর্থ জগতের নাথ বা এই সংসারের স্বামী। এজন্যই এই জায়গাকে জগন্নাথ পুরী বলা হয়। হিন্দুদের প্রমূখ চার ধাম এর মধ্যে অন্যতম পুরীর জগন্নাথ মন্দির। কথিত আছে, রাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন যিনি স্বয়ং ভগবান এর স্বপ্নাদেশ পেয়েছিলেন, তার মাধ্যমেই সূচনা হয় এই মন্দিরের। জগন্নাথ দেবের মূর্তি কে নিয়ে এত কাহিনী প্রচলিত আছে, যা হয়তো একটা ভিডিওতে বলা সম্ভবই নয়। এই মন্দিরের চূড়ার দিকে তাকালে দেখা যায় এক নীলা চক্র, যা অষ্ট ধাতু দিয়ে তৈরি। এর বিশেষত্ব হলো আপনি যে দিক থেকেই দেখুন না কেন সব সময় মনে হবে চক্রটি যেন ঠিক আপনার সম্মুখে রয়েছে, অর্থাৎ তার মুখ সামনের দিকে থাকে। এবং মন্দিরের চূড়ার পতাকা আরো  রহস্যজনক, কারণ এই পতাকা সব সময় হাওয়ার বিপরীত দিকে ওড়ে। আপনারা জানলে অবাক হবেন যে এই মন্দিরের উপর দিয়ে কোন বিমান তো দূরের কথা, কোন পাখিও উড়তে পারে না। এই অলৌকিক রহস্য সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিজ্ঞানীদেরও অবাক করেছে। এই মন্দিরের এক বড় রহস্য হলো সিংহদ্বারের সিড়ি, কথিত আছে জগন্নাথ দেবের বোন সুভদ্রা চেয়েছিলেন যে এই স্থানে যেন সবসময় শান্তি বিরাজ করে, যে কারনে আজও এই মন্দিরের সিংহদ্বারের সিড়ি পেরোলে বাইরের কোনো রকম আওয়াজ আর শোনা যায় না, এমনকি সমুদ্রের শব্দও আর কানে পৌঁছায় না। এই মন্দিরের সঙ্গে যুক্ত স্বয়ং বজরংবলী হনুমান, আপনারা হয়তো অনেকেই জানেন না যে পুরী মন্দিরের চারটি মূল দুয়ারে হনুমানজির চার মূর্তি রয়েছে, সিংহদুয়ার , উত্তর দুয়ার , দক্ষিণ দুয়ার এবং পাশ্চাত্য দুয়ার। বজরংবলি কেন এখানে বিরাজ করছেন, এবং তিনি এই মন্দিরের কোন দায়িত্ব পালন করছেন , আপনার যদি জানতে চান তাহলে এটা নিয়ে আমরা একটা আলাদা ভিডিও বানাবো। আমরা সবাই জানি যে সাধারণত দিনের বেলায় হাওয়া সমুদ্রের দিক থেকে তটের দিকে আসে, আর সন্ধ্যের সময় তটের দিক থেকে সমুদ্রের দিকে হাওয়া বয়ে যায়, কিন্তু পুরীর ক্ষেত্রে এর বিপরীত ঘটে, অর্থাৎ সকালে তটের দিক থেকে সমুদ্রের দিকে হওয়া চলে, আর সন্ধ্যায় সমুদ্রের দিক থেকে তটের দিকে হাওয়া বয়ে যায়। পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের ওপরের অংশে এক বিশেষ শক্তি রয়েছে, যে কারণে ভয়ানক ঝড় বৃষ্টি কিংবা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সময়ও মন্দিরের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয় না। মন্দিরের চূড়ায় যে ধ্বজা রয়েছে, তা প্রতিদিন পরিবর্তন করা হয়, কিন্তু ঘটনাটা সাধারণ নয়। কারণ যে ব্যক্তি এই কাজ করেন, তিনি সোজা ভাবে নয় বরং উল্টো ভাবে মন্দিরের চূড়ায় ওঠেন, তাও আবার কোন রকম সাহায্য ছাড়া। যারা এই দৃশ্য সামনাসামনি দেখেছেন শুধুমাত্র তারাই বুঝবেন এই ঘটনা কতটা অলৌকিক। যদি একদিনও এই নিয়মের ব্যতিক্রম হয় তাহলে পরবর্তী 18 বছর মন্দিরের পুজো বন্ধ থাকবে। 

সূর্যের অবস্থান যেদিকে হোক না কেন, পুরীর মূল মন্দিরটির ছায়া দিনের বেলায় দেখাই যায় না। যা আজও মানুষকে শিহরিত করে। পুরীর এই মন্দিরে শ্রী জগন্নাথ, বলরাম এবং সুভদ্রার যে বিগ্রহকে পুজো করা হয়, সেগুলি বিশেষ কাঠের তৈরি। প্রত্যেক 12 বছর অন্তর একটি গোপন রীতি মেনে জগন্নাথ বলরাম সুভদ্রা কে নতুন শরীর প্রদান করা হয়। অর্থাৎ নতুন রূপে তৈরি করা হয়, এই রীতিকে নবকলেবর বা পুনর্জন্ম বলা হয়। কথিত আছে শ্রীকৃষ্ণের তিরোধানের পর যখন তার শেষকৃত্য করা হয়েছিল, তাঁর শরীরের সব অংশ পঞ্চতত্ত্বে মিলিয়ে গেলেও হৃদয়ের কোন ক্ষতি হয়নি, ভগবানের নির্দেশেই সেই বস্তুটিকে পুরীর শ্রীমূর্তির মধ্যে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল। যাকে ব্রম্ভ বস্তু বা ব্রম্ভ পদার্থ বলে। এই ঘটনা নিয়ে হাজারো বিতর্ক রয়েছে, যা নিয়ে কেউ মুখ খুলতে রাজি না। যেদিন এই ব্রম্ভ পদার্থ নতুন মূর্তিতে স্থানান্তরিত করা হয়, সেদিন গোটা অঞ্চল জুড়ে ব্ল্যাক আউট করে দেওয়া হয়। নিঃশব্দে সেরে ফেলা হয় এই কাজ। কিন্তু কেন? তা আজও অজানা। 

 

 

 


জগন্নাথ দেবের বিগ্রহ তো বটেই, তার প্রসাদও ঠিক ততটাই রহস্যময়। সারা বছর ধরেই সমপরিমাণ প্রসাদ রান্না করা হয়, কিন্তু ওই একই পরিমাণ প্রসাদ দিয়ে হাজার মানুষ হোক কিংবা লক্ষাধিক মানুষ, তবুও প্রসাদ কখনো নষ্ট হয় না বা কখনো কম পড়ে না।    পৃথিবীর বেশিরভাগ মন্দিরেই উপোস করে পুজো অর্চনা করা হয়, কিন্তু পুরীর জগন্নাথ মন্দির  এক এমন মন্দির, যেখানকার রীতি অনুযায়ী ভক্তরা খাওয়া-দাওয়া করার পর পূজা-অর্চনা করেন। এমনটা মান্যতা রয়েছে যে মন্দিরের রান্নাঘরে যখন জগন্নাথদেবের মহাপ্রসাদ বানানো হয়, তখন এই কাজের পরিচালনা করেন স্বয়ং মা লক্ষ্মী। আর এই প্রসাদ স্বয়ং মা অন্নপূর্ণা বানান। সম্পূর্ণ শাকাহারি এই ভোগ বানানো হয় মাটির পাত্রে। এখানে একটি পাত্রের উপর আরেকটি এমন করে মোট সাতটি পাত্র আগুনে বসানো হয়, কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো যে পাত্রটি সবচেয়ে উপরে বসানো থাকে, অর্থাৎ আগুন থেকে সবচেয়ে দূরে থাকে। সেই পাত্রের রান্না সবার আগে হয়। আর নিচের পাত্রে রান্না সবচেয়ে দেরিতে হয়। সমুদ্রের তটে অবস্থিত পুরীতে কোথাও নদীর চিহ্নমাত্র নেই, কিন্তু আপনি জানলে অবাক হবেন যে পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের রান্নাঘরে একটি বিশেষ কুয়োতে রয়েছে গঙ্গা নদীর প্রবাহ। মন্দিরে রয়েছে এক গোপন অংশ, যেখানে দেবতাদের সমস্ত অলংকার এবং মূল্যবান দ্রব্য রাখা রয়েছে। এই বিশেষ কক্ষের রক্ষণাবেক্ষণ করে কয়েকটি অদ্ভুত আকারের বিষধর সাপ এবং স্বর্গীয় আত্মা। বহুবার শত্রুদের আক্রমণ এবং ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পরেও কিভাবে এই মন্দির আজও আগের অবস্থাতেই রয়েছে , এটা ভাবলেও আমরা চমকে উঠি। সত্যি দৈবিক লীলার সামনে সবাই অসহায়। সবাই কমেন্টে লিখুন জয় জগন্নাথ 🙏 আপনারা কি কখনো পুরীর এই অলৌকিক মন্দিরে গিয়েছেন ?    লেখাটা ভালো লাগলে আমাদের ইউটিউব চ্যানেল অবশ্যই ঘুরে আসবেন, সেখানে পেয়ে যাবেন আরও অজস্র সুন্দর সুন্দর ভিডিও। ‌যা আপনাকে মন্ত্রমুগ্ধ করে দেবে    PuranKatha Official (1.3 Million Subscribers)

Link  https://www.youtube.com/channel/UCw4iBakNHvzMa_8JtQvWLiQ

 - 


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন