সোমবার, ২৩ জুন, ২০২৫

কামাখ্যা মন্দিরের এই গোপন রহস্যগুলি কেউ জানে না

       কামাখ্যা মন্দিরের রহস্য

 

 

ভারতবর্ষে একাধিক চমৎকারী মন্দির রয়েছে, সেখানে এমন কিছু ঘটনা ঘটে, যাকে বিজ্ঞান অব্দি নজরন্দাজ করতে পারেনা। দেবী সতীর ৫১ শক্তিপীঠ সম্পর্কে আপনারা সকলেই শুনেছেন, কিন্তু আজ আমি আপনাদের এক এমন শক্তিপীঠ সম্পর্কে বলব, যেখানকার রহস্য দেখে শুধু সাধারণ মানুষ নয়, বিজ্ঞানীরাও তটস্থ। দেবী মায়ের এক এমন মন্দির আছে, যেখানে এটি প্রস্তর খণ্ড থেকে রক্ত নির্গত হয়। ‌ আর সেই সময় মন্দিরের পার্শ্ববর্তী নদীর রং লাল হয়ে যায়। এই রহস্যের কথা শুনে বিজ্ঞানীরা সেখানে গিয়েছিলেন, এরপর তারা মাতার যে চমৎকার দেখতে পান, তা দেখে স্তব্ধ হয়ে যান। ঠিক কি ঘটেছিল তাদের সাথে সবটাই জানাবো আজকে... আপনাদের প্রিয় "পুরাণ কথা অফিসিয়াল" এর আজকের বিশেষ নিবেদন - কামরূপ কামাখ্যা মন্দিরের রহস্য!

 


 


কামরূপ কামাখ্যা এই শব্দে দুটির মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে হাজারো রহস্য। আসামের কামাখ্যা মন্দির শুধু এদেশেই নয় , সমগ্র বিশ্বে প্রসিদ্ধ। এই জায়গাকে তান্ত্রিক অঘোরীদের সিদ্ধপীঠ বলে মনে করা হয়। বাংলার আষাঢ় মাসে এখানে অম্বুবাচী মেলা বসে, যেখানে ভিড় হয় লক্ষাধিক মানুষের। দেবী কামাখ্যা এবং এই তীর্থস্থানকে নিয়ে ছড়িয়ে রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন মতবাদ, এই স্থানে এমন কিছু ঘটনা ঘটে যা শুনলে আপনারা শিউরে উঠবেন। কোন পুরুষ সেখানে একবার গেলে আর নাকি ফিরে আসে না , এমনই কিছু কথা প্রচলিত রয়েছে। 


 

এটা তো আপনারা সকলেই জানেন যে ভারতের সবচেয়ে প্রাচীন শক্তিপীঠগুলির মধ্যে কামাখ্যা অন্যতম। কথিত আছে দক্ষ যজ্ঞ বিনাশের পর যখন ভগবান শিব সতীর দেহ কে নিয়ে তান্ডব করছিলেন, তখন দেবতাদের প্রার্থনায় ভগবান বিষ্ণু সংসারকে রক্ষা করেছিলেন। তিনি সুদর্শন চক্র প্রয়োগ করে সতীর দেহ কে 51 টি অংশে কেটে ফেলেছিলেন, যেগুলি পৃথিবীর ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় পতিত হয়েছিল। এই কামাখ্যায় দেবী সতীর যোনিদেশ পতিত হয়েছিল, যা পরে প্রস্তরীভূত হয়ে যায়। ইতিহাস থেকে জানা যায় যে আজ থেকে অনেক বছর আগে নীলাচল পর্বতে মোঙ্গল আক্রমণ এ প্রথম তান্ত্রিক কামাখ্যা মন্দির ধ্বংস হয়েছিল। তারপর বেশ কয়েকবার পুনঃনির্মিত হয়েছে এই প্রাচীন মন্দির। তবে এই নিয়ে ভিন্ন মতবাদ প্রচলিত রয়েছে। 

 


সারা ভারতের ভক্তরা অম্বুবাচীর সময়ে জমায়েত হন এই মন্দির চত্বরে। সাধু সন্ন্যাসীর ভিড়ে কামাখ্যা মন্দির জমজমাট হয়ে থাকে। এই জায়গাকে নিয়ে বিভিন্ন কথার প্রচলন রয়েছে, রহস্যময় জাদু মন্ত্র এবং ঘন অরণ্য দেশ হিসেবে আলোচনার কেন্দ্রস্থল কামরূপ কামাখ্যা। কোন পুরুষ সেখানে একবার গেলে ফিরে আসা কঠিন। এখানে অনেক ধরনের কালো জাদু এবং তন্ত্র চর্চা হয়ে থাকে। এই মন্দিরে দশমহাবিদ্যার আরাধনাও করা হয়, এর মধ্যে ত্রিপুরাসুন্দরী, মাতঙ্গী এবং কমলা প্রধান মন্দিরে পূজিত হন। অন্যান্য দেবীদের জন্য পৃথক মন্দির আছে। কামাখ্যা মন্দিরে প্রধান চারটি কক্ষ আছে, গর্ভগৃহ এবং তিনটি মন্ডপ। 

 


অম্বুবাচীর সময় মাতা ধরিত্রী রজস্বলা হবার প্রতীক হিসেবে এখানে বিশেষ পূজা অনুষ্ঠিত হয়। যদিও মূল মন্দিরের দরজা বন্ধ রাখা হয়। এই মন্দিরের গর্ভগৃহ আসলে ভূগর্ভস্থ একটি গুহা , যেখানে প্রায় 10 ইঞ্চি গভীর একটা গর্ত তথা কুন্ড দেখা যায়, যেখান থেকেই প্রাকৃতিক জল নিঃসরণ হতে থাকে। যা অম্বুবাচীর সময় লাল রঙের হয়ে যায়, এটা নিঃসন্দেহে এক অলৌকিক ঘটনা। মন্দিরের মধ্যে এক বড় সাদা কাপড় বিছিয়ে দেওয়া হয়, যা তিনদিন পর লাল রঙের হয়ে যায়। এই রক্ত বস্ত্র ভক্তদের মধ্যে প্রসাদ রূপে দেওয়া হয়। কালিকা পুরাণ অনুসারে কামাখ্যায় পূজা করলে মানুষের সমস্ত ইচ্ছে পূর্ণ হয়, প্রাচীনকাল থেকে এখানে বলিদান প্রথা চলে আসছে। দেবী কামাক্ষার পুজো বামাচার এবং দক্ষিণাচার উভয় মতেই করা হয়। মন্দির চত্বরের গাছে হলুদ লাল মন্ত্রপূতঃ দাগা বাধা থেকে শুরু করে তন্ত্র সাধনা - সবকিছুর কেন্দ্র এই শক্তিপীঠ। বহু অঘোরী সাধু কেউ দেখা যায় মন্দির চত্বরে, দেবীর আরাধনা করে সিদ্ধি লাভ করতে মুখিয়ে থাকেন অনেকেই। তবে শুনতে যেমন লাগে, এই জিনিস তার থেকে অনেক বেশি গভীর এবং ভয়ানক। আপনারা যদি তন্ত্র সাধনা এবং এর প্রাচীন দেব-দেবী সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান, সেটা অবশ্যই কমেন্টে জানান।

লেখাটা ভালো লাগলে আমাদের ইউটিউব চ্যানেল অবশ্যই ঘুরে আসবেন, সেখানে পেয়ে যাবেন আরও অজস্র সুন্দর সুন্দর ভিডিও। ‌যা আপনাকে মন্ত্রমুগ্ধ করে দেবে    PuranKatha Official (1.3 Million Subscribers)

Link  https://www.youtube.com/channel/UCw4iBakNHvzMa_8JtQvWLiQ



শুক্রবার, ১৩ জুন, ২০২৫

অলৌকিকতায় ভরা পুরীর জগন্নাথ মন্দির, এই রহস্য জানেন?

 অলৌকিকতায় ভরা পুরীর জগন্নাথ মন্দির, এই আশ্চর্যজনক রহস্য জানেন?

 

 

Mysterious Facts: বন্ধুরা, ভারত এমন একটি দেশ যা তার সংস্কৃতি, সভ্যতা এবং পর্যটন কেন্দ্রগুলির জন্য পরিচিত।  এর পাশাপাশি, ভারতের ইতিহাসে এমন অনেক মন্দির রয়েছে যা তাদের সৌন্দর্যের পাশাপাশি অলৌকিকতার জন্য বিশ্ববিখ্যাত।  এমনকি ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে এমন অনেক মন্দির রয়েছে, যেগুলিকে অলৌকিক বলে মনে করা হয়।  বন্ধুরা, আজ আমরা আপনাদের এমন এক রহস্যময় মন্দিরের কথা বলতে যাচ্ছি যার নাম জগন্নাথ পুরী মন্দির। শুনে হয়তো অবাক হলেন! কারণ এই মন্দিরের উপর ইতিমধ্যে অনেক ভিডিও দেখেছেন, কিন্তু আজকে আমি আপনাদের সামনে এমন কিছু তথ্য তুলে ধরব, যা প্রত্যেকটি ইউটিউবার নিজেদের ভিডিওতে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে, কারণ তারা বিতর্কে জড়াতে চায় না।

 


বন্ধুরা, আপনারা সবাই জানেন জগন্নাথ মন্দির হিন্দুদের চারটি ধামের মধ্যে একটি।  এর পাশাপাশি, এই মন্দিরটি ভগবান বিষ্ণুর অষ্টম অবতার ভগবান কৃষ্ণকে উৎসর্গ করা হয়েছে।  অনেকেই বলছেন, কলিযুগের শেষের সাথী জগন্নাথ মন্দির জলে তলিয়ে যাবে।  জগন্নাথ আক্ষরিক অর্থে জগতের প্রভু। যে কারণে একে পুরী জগন্নাথ বৈকুণ্ঠধামও বলা হয়। পুরীকে ভগবান বিষ্ণু এবং তার পরিবারের গৃহ বলেই মনে করা হয়। এই মন্দির শুধুমাত্র নিজের রহস্যময়তার জন্য নয়, প্রাচীন স্থাপত্য কলার জন্যও প্রসিদ্ধ। এখানে ভগবান জগন্নাথ তার দাদা বলভদ্র এবং বোন সুভদ্রার বিশেষ কাঠের মূর্তি দেখা যায়। এখানকার রথযাত্রা উৎসব শুধুমাত্র ভারতেই নয় গোটা বিশ্বে বিখ্যাত। যেখানে জগন্নাথ বলরাম সুভদ্রা তিনজনের আলাদা আলাদা রথ বের করা হয়। এই মন্দির বৈষ্ণব পরম্পরার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ‌ যাকে নীলগিরি বা নীল ক্ষেত্রও বলা হয়ে থাকে। হিন্দু পুরাণ অনুসারে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ নীলমাধব রূপে অবতীর্ণ হয় এখানে বিভিন্ন লীলা করেছিলেন।

 


আলোকময় পরিবেশ এর মধ্যেও এখানে এমন কিছু ঘটনা ঘটে, যা মানুষের চিন্তারও বাইরে। কেন এই মন্দিরকে নিয়ে মানুষ বেশি চিন্তা করে, আলোচনার কেন্দ্রে থাকে এই মন্দির।  যে বছর এই স্থানে নবকলেবর অনুষ্ঠিত হয়, সেবারেই ঘটে এক রোমাঞ্চকর ঘটনা। পুরনো বিগ্রহ থেকে কোন একটা বিশেষ জিনিসকে স্থানান্তরিত করা হচ্ছে নতুন মূর্তিতে। কিন্তু কোন জিনিস? এর নাম ব্রম্ভ পদার্থ বা ব্রম্ভ বস্তু। হ্যাঁ সবাই এই নামেই চেনেন। এই বস্তু নাকি ভগবান শ্রীকৃষ্ণের হৃদয়! হ্যাঁ বিভিন্ন গ্রন্থ কিংবা ভক্তদের কথা থেকে উঠে আসে এমনই ভয়ানক তথ্য। কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের শেষে এক জঙ্গলে যখন শ্রীকৃষ্ণের তিরোধান হয়। তার শরীর বৈকুণ্ঠলোকে চলে গেলেও থেকে যায় তার হৃদয়। শুনতে আজব লাগলেও উঠে আসছে এমনই তথ্য। শরীর বিনষ্ট হলেও হৃদয়ের কোন ক্ষতি হয়নি। অগ্নি তাকে স্পর্শও করতে পারে নি। এটা কিন্তু রক্তমাংসে গড়া অঙ্গ নয়। অনেকটা যান্ত্রিক বলাই চলে, যার মধ্যে রয়েছে অফুরন্ত শক্তি। নীল বর্ণের এই অলৌকিক বস্তু কে দেখে স্বয়ং জরা অর্থাৎ যার হাতে শ্রীকৃষ্ণ তীরবিদ্ধ হয়েছিলেন, তিনিও অবাক হয়ে যান।

 

 


 এক দৈববাণীর পর তিনি সেই বস্তুকে নদীর জলে ভাসিয়ে দেন। এরপর তৎকালীন পুরীর রাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন এক দিব্যস্বপ্নের পর সমুদ্রের ধারে সেই নীল বস্তুটি খুঁজে পান। মন্দিরের বিগ্রহ তে স্থাপনের মাধ্যমে এই বস্তুর কথা তিনি গোপন রাখেন। এই অলৌকিক বস্তু এতটাই শক্তিশালী এবং উর্যা সমৃদ্ধ যে এর দিকে তাকালেই মানুষ অন্ধ হয়ে যেতে পারে আর খালি হাতে স্পর্শ করলে পঙ্গু হয়ে যেতে পারে। শুধু তাই নয় এর থেকেই এত বিপুল পরিমান শক্তি বেরোতে পারে যে আপনার কোন আন্দাজ নেই। সে কারণে নবকলেবরের সময় এই বস্তুকে স্থানান্তরিত করার জন্য অনেক সতর্ক থাকতে হয়। গোটা অঞ্চলজুড়ে ব্ল্যাক আউট করে দেওয়া হয়।

 

 

 

 


আপনারা সবাই জানেন যে ভগবান বিষ্ণুর ইতিমধ্যে নয় অবতার গ্রহণ করেছেন, এবার আসতে বাকি তার দশম অবতার অর্থাৎ ভগবান কল্কি। যখন সংসারে পাপের পরিমাণ তার সীমা ছাড়িয়ে যাবে, তখনই সবার সামনে প্রকট হবেন ভগবান বিষ্ণু। এমনটা মনে করা হয় যে যতদিন না ভগবান বিষ্ণুর কোন অবতার এসে সেই ব্রম্ভ বস্তু থেকে অলৌকিক শক্তি নিচ্ছেন, ততদিন সেই হৃদয় কম্পিত হতে থাকবে। ‌ সেই ঈশ্বরীয় শক্তি গ্রহণ করার পরেই ওই বস্তুটি হয়তো আর থাকবে না। এছাড়া ছটিয়াভাটা ধামের নাম হয়তো অনেকেই শুনেছেন, যা কটক থেকে 30 কিলোমিটার এবং জাজপুর থেকে 48 কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।  এর সাথে জড়িয়ে রয়েছে কলকি দেবের নাম। একটি পুরনো বটগাছ আছে, যাকে মুনি-ঋষিদের সাধনা পীঠ বা সমাধি পিঠ মনে করা হয়। ভবিষ্যবাণী বলছে যে কলিযুগের অন্তে ভগবান জগন্নাথ বারো হাত লম্বা তরবারি নিয়ে ঘোড়ায় সওয়ার হয়ে পাপীদের বিনাশ করতে নামবেন। আর তার প্রধান কেন্দ্র হবে জগন্নাথ মন্দির। আপনারা হয়তো অনেকেই লক্ষ্য করেছেন যে ভারতে অনেক মন্দির থাকলেও বিশেষ কিছু মন্দিরে আলাদা সংকেত দেখতে পাওয়া যায়। কারণ প্রতিটি স্থানের আলাদা পৌরাণিক মাহাত্ম্য রয়েছে, যে কারণে ভিন্ন ভিন্ন চিহ্ন চোখে পড়ে। 

 

 


 

ভবিষ্যতে যখন কলি যুগ শেষ হয়ে সত্যযুগ শুরু হবে, সেই সময় এক বিশেষ স্থান পাবে পুরীর জগন্নাথ মন্দির। যেমন দ্বাপর যুগে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের দ্বারকা নগরী জলের তলায় ডুবে গিয়েছিল, ঠিক তেমনি পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের সাথে একই ঘটনা ঘটবে। এর থেকে একটা জিনিস স্পষ্ট যে প্রত্যেক যুগের অন্তে কোন একটি মহান স্থানে বিধ্বংসী কোন ঘটনা ঘটে। তবে এর পরিণাম কি হবে, সেটা সময় বলবে। জগন্নাথ মন্দিরের সাথে শুধু শ্রীকৃষ্ণ নয়, ভগবান বিষ্ণুর সব অবতারের সম্পর্ক রয়েছে, সেটা বলাই বাহুল্য। আপনারা যদি কলিযুগের ভয়াবহ অবস্থা সম্পর্কে আরো জানতে চান, সেটা আমাদের কমেন্টে জানান!

লেখাটা ভালো লাগলে আমাদের ইউটিউব চ্যানেল অবশ্যই ঘুরে আসবেন, সেখানে পেয়ে যাবেন আরও অজস্র সুন্দর সুন্দর ভিডিও। ‌যা আপনাকে মন্ত্রমুগ্ধ করে দেবে    PuranKatha Official (1.3 Million Subscribers)

Link  https://www.youtube.com/channel/UCw4iBakNHvzMa_8JtQvWLiQ

 

 




সোমবার, ৯ জুন, ২০২৫

মন্দির বা দেবালয়ে শৌচালয় বানানো হয় না কেন ?

       মন্দিরে শৌচালয় বানানো হয় না কেন?

 বন্ধুরা হিন্দু ধর্মে পূজার এক আলাদা মাহাত্ম্য রয়েছে। আমরা সকলেই মন্দিরএ যাই ভগবানের আশীর্বাদ লাভের আশায়। মন্দিরে গেলে আমরা সকলেই দেখতে পাই ভগবান বিভিন্ন রকম বস্ত্র পরিধান করে রয়েছেন এবং তাদের আহারের জন্য বহু রকম ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে। কিন্তু আমরা কখনও এটা ভেবে দেখেছি কি ভগবানের জন্য যখন সবরকম ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে তাহলে শৌচালয়ের ব্যবস্থা কেন করা হয় না? আপনাদের প্রিয় "পুরাণ কথা অফিসিয়াল" এর আজকের বিশেষ নিবেদন - মন্দির বা দেবালয়ে শৌচালয় থাকে না কেন ?

 


আজ আমরা জানতে পারব যে ভগবানের জন্য যখন সবরকম ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে তাহলে শৌচালয়ের ব্যবস্থা কেন করা হয় না? হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী আমরা জেনে থাকি দেবতাদের শরীর আমাদের মানব জাতির থেকে একেবারেই আলাদা। আমি বা আপনি আমরা সাধারন মানুষ খিদে পেলে তখনই আমরা খাবার গ্রহণ করি কিন্তু ভগবানের ব্যাপারটা পুরোপুরি আলাদা! আমরা নিজেদের ইচ্ছা পূরণের জন্যে ভগবানকে ভোগ নিবেদন করে থাকি। কিন্তু আসলে ভগবান কি সেটা খেয়ে থাকেন? 

 

একেবারেই না । ভগবান কোনদিনই আমাদের নিবেদিত খাবার খান না। তাহলে এখন প্রশ্ন হল ভগবান যখন আমাদের নিবেদিত খাবার খান না, তাহলে আমরা ভগবানকে ভোগ নিবেদন করি কেন? বন্ধুরা আমরা মনুষ্য জাতি খাবার খেয়ে তাতে আমরা তৃপ্ত হই কিন্তু ভগবানের বেলায় ব্যাপারটা একেবারেই আলাদা। ভগবান আমাদের নিবেদিত খাবার খান না ঠিকই কিন্তু খাবারের সুগন্ধ অনুভব করেই ভগবান তৃপ্ত হন। তাহলে এখন বলা যেতেই পারে যে ভগবান যখন খাবার গ্রহণ করেন না তাহলে মন্দিরে শৌচালয়ের প্রয়োজনীয়তা কোথায়? তাহলে এটাই কারণ যে মন্দিরে ভগবানের খাবার এবং শয়নের ব্যবস্থা অবশ্যই করা হয় কিন্তু কোন শৌচালয় ভগবানের জন্য নির্মাণ করা হয় না।

 


 বন্ধুরা হিন্দু শাস্ত্রে আমরা এই ঘটনার অনেক প্রমান পেয়ে থাকি যে ভগবান ভোজনের নয় ভক্তের ভক্তির প্রমাণ নিয়ে থাকেন। পুরাণের বিভিন্ন কাহিনীতে ভক্তের ভক্তির প্রমাণ আমরা পেয়ে থাকি।  ভগবান রাম তার একনিষ্ঠ ভক্ত শবরীর আশ্রম এ গিয়েছিলেন। শবরী ভগবান রামের জন্য অনেক বছর ধরে প্রতীক্ষা করছিলেন। ভগবান রামের আগমন সংবাদ পেয়ে শর্বরী তারপর  কুটির কে ফুল দিয়ে সাজিয়েছিলেন। বন থেকে বেছে বেছে সেরা ফলগুলি শর্বরী ভগবান রামের জন্য নিয়ে এসেছিলেন। ফলগুলো প্রত্যেকটা ফল ভালো হবে কিনা সেটা যাচাই করার জন্য শবরী প্রত্যেকটা ফল নিজে আগে খেয়ে দেখেছিলেন। সেই কারণে ভগবান রাম ফলগুলো খাবার সময় এটা কখনোই ভাবেনি যে ফলগুলো এঁটো ছিল। তিনি শুধু শবরীর ভক্তিভাবে প্রমাণই এর মধ্যে পেয়েছিলেন। সেই কারণে তিনি এঁটো ফলগুলি খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন।

 


সেইরকমই ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বিদুরের ঘরের সাধারণ খাবার পছন্দ করেছিলেন। আর অহংকারে ভরা দুর্যোধনের ছাপান্ন ভোগ দূরে সরিয়ে দিয়েছিলেন। এই ঘটনার বর্ণনা ভগবদ্গীতায় করা হয়েছে। ভগবদ্গীতার ঘটনা অনুযায়ী  তিনি শুধু হস্তিনাপুরের মন্ত্রী ছিলেন না তিনি ভগবান কৃষ্ণের উপাসক ও ছিলেন। তিনি একজন উচ্চকোটির সাধু ছিলেন এবং স্পষ্টবাদী ছিলেন... সেই কারণে দুর্যোধনের সাথে তার বনিবনা হতো না । আর দূর্যোধন তাকে কারণে-অকারণে অনেক অপমান করতেন । কিন্তু  পিতামহ ভীষ্ম এবং ধৃতরাষ্ট্র এর ভালোবাসার কারণে বিদুর এসব গায়ে মাখতেন না। হস্তিনাপুরের প্রধানমন্ত্রী হওয়া সত্বেও বিদুরের চালচলন পোশাক-আশাক এবং খাবার দাবার খুবই সাদাসিধে ছিল তিনি একজন সাধারন মানুষের মতো জীবনযাপন করতেন। ভগবান কৃষ্ণ যখন দূত হয়ে হস্তিনাপুরে সন্ধির প্রস্তাব নিয়ে আসেন তখন দুর্যোধন তার প্রস্তাব অস্বীকার করেন। তারপর তিনি কৃষ্ণকে সেখানে রাত্রি বাস করার জন্য এবং ভোজনের জন্য অনুরোধ করেন। কিন্তু দুর্যোধনের অহংকার পূর্ণ ব্যবহারের জন্য শ্রীকৃষ্ণ তার এই প্রস্তাব অস্বীকার করেন। দুর্যোধনের প্রস্তাব অস্বীকার করার জন্য যখন দূর্যোধন শ্রীকৃষ্ণকে জিজ্ঞাসা করলেন যে কেন তিনি তার আতিথ্য অস্বীকার করেছেন ।তার উত্তরে ভগবান কৃষ্ণ বলেছিলেন যে , হে দূর্যোধন কারোর কোনো প্রস্তাব স্বীকার করার জন্য তিনটি প্রধান জিনিস অত্যন্ত জরুরী। সেগুলি হল ভাব ,প্রভাব এবং অভাব। প্রথমত তোমার ব্যবহার এমন নয় বা তোমার ভাব এমন নয় যে তোমার আতিথ্য স্বীকার করা যাবে দ্বিতীয়তঃ তোমার এত প্রভাবও নেই যে  তোমাকে ভয় পেয়ে আমি তোমার আতিথ্য স্বীকার করব। আর তৃতীয়তঃ আমার এত অভাব নেই যে বাধ্য হয়ে আমি তোমার মত  ব্যক্তির আতিথ্য স্বীকার করব। এই কথা বলার পর ভগবান কৃষ্ণ সেখান থেকে  প্রস্থান করলেন এবং তিনি মহাত্মা বিদুরের কুটিরে এসে উপস্থিত হন  যেখানে বিদুর তাকে তার সঙ্গে ভোজনের জন্য নিমন্ত্রণ করলেন। সেই খাবার খুব সাধারণ হলেও বিদুরের মনে শ্রীকৃষ্ণের জন্য যে ভক্তি ও প্রেম ছিল সেটার জন্যই ভগবান কৃষ্ণ বিদুরের কাছে তার সাধারণ ভোজন গ্রহণ করেছিলেন। 

 


 এই দুটো ঘটনা থেকে আমরা এটাই বুঝতে পারি যে ভগবান ভক্তের কাছ থেকে ভোজনের নয় মনের ভক্তি ভাবের আকাঙক্ষা করে থাকেন। যদি কোন ভক্ত নিজের পূর্ণ ভক্তি দিয়ে ভগবানকে ডাকেন তবে ভগবান অবশ্যই তার মনস্কামনা পূরণ করেন। আজকে এই পর্যন্তই।তাহলে আপনারা বুঝতে পারলেন যে ভগবানের মন্দিরে শৌচালয়ের ব্যবস্থা কেন থাকে না... 

লেখাটা ভালো লাগলে আমাদের ইউটিউব চ্যানেল অবশ্যই ঘুরে আসবেন, সেখানে পেয়ে যাবেন আরও অজস্র সুন্দর সুন্দর ভিডিও। ‌যা আপনাকে মন্ত্রমুগ্ধ করে দেবে →   PuranKatha Official (1.3 Million Subscribers)

Link →  https://www.youtube.com/channel/UCw4iBakNHvzMa_8JtQvWLiQ

 


 

শনিবার, ৭ জুন, ২০২৫

রামায়ণের শ্রীরামের বোন কে ছিল ? (বড় রহস্য)

    শ্রীরামের নিজের বোনের কাহিনী - কেউ জানে না!


রামায়ণ মহাকাব্যে বিভিন্ন ঘটনা আজও আমাদের অবাক করে। শ্রী রামের জন্ম, বিবাহ এবং রাবণের সঙ্গে যুদ্ধ এই প্রধান ঘটনাগুলির সঙ্গে আমরা ভালোভাবে পরিচিত। কিন্তু এর বাইরেও এমন কিছু কাহিনীর উল্লেখ আছে যা শুনলে আপনারা চমকে উঠবেন। অযোধ্যার রাজা দশরথের চার পুত্র ছিল - রাম, ভরত, লক্ষণ এবং শত্রুঘ্ন। এটা তো আমরা সকলেই জানি, কিন্তু শ্রী রামের একজন বোনও ছিল। হ্যাঁ ঠিকই শুনেছেন। কিন্তু তার উল্লেখ পাওয়া যায় না কেন ? আপনাদের প্রিয় "পুরাণ কথা অফিসিয়াল" এর আজকের বিশেষ নিবেদন - শ্রী রামের একমাত্র বোনের কাহিনী


যজ্ঞের অগ্নি থেকে প্রকট হয়ে ছিলেন স্বয়ং অগ্নিদেব। তিনি একটি ক্ষীরে ভর্তি বাটি দশরথকে দিয়েছিলেন। যা গ্রহণ করেছিলেন দশরথের তিন রানী কৌশল্যা, কৈকেয়ী এবং সুমিত্রা। এরপরে দশরথের চার সন্তানের জন্ম হয়েছিল। যাদের নামকরণ করেছিলেন ঋষি বশিষ্ঠ। কিন্তু এরই মধ্যে হারিয়ে যায় দশরথের প্রথম সন্তানের গাঁথা। একসময় শ্রীরাম জানতে পেরেছিলেন তার একজন ভগিনী রয়েছে। যে তার থেকে বয়সে বড়। কিন্তু এ রহস্য আজও বেশিরভাগ মানুষের কাছেই অজানা।


কথিত আছে রাজা দশরথ এবং রাণী কৌশল্যার একটি কন্যাসন্তান ছিল, যার নাম শান্তা। ইনিই ছিলেন দশরথের প্রথম সন্তান। একবার অঙ্গ রাজ্যের রাজা রোমপদ এবং তার রানী বর্ষিনী অযোধ্যা ভ্রমণে এসেছিলেন। সেই রাজার সঙ্গে বার্তালাপে দশরথ জানতে পারলেন যে তারা নিঃসন্তান। এ নিয়ে তারা খুবই কষ্টে রয়েছে। তাদের এই দুঃখ দেখে রাজা দশরথ নিজের একমাত্র কন্যা শান্তাকে তাদের হাতে সমর্পন করলেন। এক পুত্রীকে লাভ করে সেই দম্পতি আনন্দে দিশাহারা হয়ে পড়ে। একবার এক ব্রাহ্মণ রাজার সঙ্গে দেখা করতে আসে। সে নিজের ক্ষেতের জন্য সাহায্য চাইতে এসেছিল। কিন্তু রাজা রোমপদ শান্তার সঙ্গে এতটাই ব্যস্ত ছিলেন , ব্রাহ্মণের দিকে তাকাতেও ভুলে গেলেন। এই ঘটনার কথা শুনে সেই রাজ্যের সমস্ত ব্রাহ্মণ অত্যন্ত দুঃখ পেল, তারা ছিলো দেবরাজ ইন্দ্রের ভক্ত। তাদের এই কষ্ট দেখে ইন্দ্র অত্যন্ত ক্রোধান্বিত হলেন, এবং অঙ্গ রাজ্যের উপর বৃষ্টিপাত বন্ধ করে দিলেন। যার ফলে সেই গ্রামের অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়। সমস্ত ফসল নষ্ট হতে থাকে। 


এই বিপদের হাত থেকে রক্ষা পেতে রাজা গিয়েছিলেন বিভান্ডক ঋষির পুত্র ঋষ্যশৃঙ্গ ঋষির কাছে। সেই মহর্ষি দেবরাজ ইন্দ্র কে সন্তুষ্ট করতে এক বিশাল যজ্ঞের আয়োজন করেছিলেন, যার ফলে একসময় ইন্দ্রের ক্রোধ শান্ত হয় এবং অঙ্গরাজ্যে পুনরায় বৃষ্টিপাত শুরু হয়। কিন্তু এদিকে সন্তান থাকা সত্ত্বেও দশরথ হয়ে ওঠেন নি:সন্তান। কুলগুরু বশিষ্ট্যের উপদেশে তিনি তাঁর জামাতা ঋষ্যশৃঙ্গের কাছে গিয়েছিলেন। এরপর রাজা দশরথের সন্তান লাভের জন্য ঋষ্যশৃঙ্গ মুনি পুত্রেষ্টি যজ্ঞের আয়োজন করেছিলেন, যার মাধ্যমেই দশরথ লাভ করেন চার পুত্রকে। এভাবেই হয়েছিল শ্রী রামচন্দ্রের জন্ম। তবে এর পেছনে ছিল এক বড় ভবিষ্যৎবাণী , যারা রহস্য শুনলে আপনারা অবাক হবেন। যদি আপনারা শ্রী রামচন্দ্রের ভগিনী শান্তা সম্পর্কে আরো জানতে চান সেটা অবশ্যই কমেন্টে জানান। 
লেখাটা ভালো লাগলে আমাদের ইউটিউব চ্যানেল অবশ্যই ঘুরে আসবেন, সেখানে পেয়ে যাবেন আরও অজস্র সুন্দর সুন্দর ভিডিও। ‌যা আপনাকে মন্ত্রমুগ্ধ করে দেবে    PuranKatha Official (1.3 Million Subscribers)
 
 

শুক্রবার, ৬ জুন, ২০২৫

মা মনসা দেবীর আসল রহস্য

মা মনসার অলৌকিক রহস্য

 

মা মনসা হিন্দু ধর্মের এক প্রধান দেবী। সর্পদংশন এর হাত থেকে রক্ষা পাওয়া, ঐশ্বর্য লাভ এবং সন্তান লাভের জন্যই মূলত দেবীর আরাধনা করা হয়। কিন্তু আমরা অনেকেই মা মনসা সম্পর্কে অনেক কিছু জানি না । দেবীর পুজো প্রথমে কেউ করতে চাইত না কেন? দেবীর এক চোখ অন্ধ কেন ? তার জন্মই বা কিভাবে হয়েছিল? এরকমি হাজারো প্রশ্ন ঘিরে রয়েছে মা মনসার ইতিহাস। আপনাদের প্রিয় "পুরাণ কথা অফিসিয়াল" এর আজকের বিশেষ নিবেদন - দেবী মনসার 10 টি অজানা তথ্য, যা আজকের সময়ে বেশি আলোচনা করা হয় না।



দেবী মনসার জন্ম নিয়ে রয়েছে হাজারো বিতর্ক। হিন্দু পুরাণে তাকে ঋষি কশ্যপ এবং নাগ জননী কদ্রুর কন্যা বলা হয়েছে। সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্মার আদেশেই ঋষি কশ্যপের মন থেকে এক বিশেষ দেবীর সৃষ্টি হয়েছিল, যার নাম হয় মনসা। তবে মঙ্গলকাব্যে বলা হয়েছে যে মনসার পিতা হলেন ভগবান শিব। 
প্রথম থেকেই দেখা গেছে যে মনসা অত্যন্ত হিংস্র এবং প্রতিশোধমূলক দেবী ছিলেন, তিনি তাঁর পূজা লাভের জন্য অনেক নিষ্ঠুর কাজ করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে তিনি ঠিক এর বিপরীত হয়ে গিয়েছিলেন। 
বিভিন্ন পৌরাণিক তথ্যে বলা আছে যে ছোট থেকেই মনসার লালন পালন করেছিলেন নাগরাজ বাসুকি, আসলেই তাঁর একটি বোনের ইচ্ছে ছিল , এ নিয়ে তিনি ভগবান শিবের কাছে আবেদন করেছিলেন। মহাদেব তার পরম ভক্তের উপর কৃপাদৃষ্টি বর্ষণ করেছিলেন।  
মনসাবিজয় কাব্যে লেখা আছে যে একবার নাগমাতা কদ্রু একটি বালিকার মূর্তি নির্মাণ করেছিলেন। সেই মুহূর্তেই ভগবান শিবের রশ্মি নির্গত হলে তা থেকে মনসার জন্ম হয়েছিল। এরপর বাসুকি তাকে ভগিনী বলে স্বীকার করে নেন। 
 
 
 
 
 
দেবী মনসার বিবাহ নিয়ে রয়েছে একাধিক মতবাদ। তবে সবথেকে গ্রহণযোগ্য তথ্য অনুসারে তার বিবাহ হয়েছিল মহামুনি জরৎকারুর সঙ্গে। তবে তিনি এই শর্তে মনসা কে বিবাহ করেছিলেন, যে যদি মনসা কোন কারণে অবাধ্য হয়, তাহলে তিনি মনসা কে ত্যাগ করবেন।
দেবতা এবং অসুররা অমৃত লাভের জন্য যখন সমুদ্র মন্থন করছিলেন, তখন সেখান থেকে হলাহল নামক এক ভয়ানক বিষ বেরিয়ে আসে। যার প্রকোপে সবার প্রাণহানি ঘটতে থাকে। তখন ভগবান শিব নিজের গলায় এই বিষ ধারণ করেছিলেন। এই বিষের কারণে তাঁর গলার রং হয়ে যায় নীল, যে কারণে তার নাম হয় নীলকন্ঠ। কিছু পৌরানিক তত্ত্বে বলা আছে যে এই সময় ভগবান শিবকে বিষের প্রকোপ থেকে রক্ষা করেছিলেন দেবী মনসা। তখন থেকেই তার নাম হয় বিষহরি‌।
 
 

 
কথিত আছে একবার দেবী চণ্ডী এবং মনসার মধ্যে সংঘাত হয়েছিল। ভগবান শিবের সঙ্গে মনসাকে দেখে দেবী চণ্ডী সন্দেহ করেছিলেন, কারণ এর আগে তিনি কখনো মনসাকে দেখেননি। এই সংঘর্ষ এতই বেড়ে যায়, যে দেবী চণ্ডী ক্রুদ্ধ হয়ে মনসার একটি চোখ অন্ধ করে দিয়েছিলেন। যদিও অনেক জায়গায় বলা আছে যে মনসার খারাপ আচরণের জন্য চন্ডী এই কাজ করেছিলেন। এজন্যই মনসামঙ্গল কাব্যে মনসাকে চেঙমুড়ী কানি বলেছিলেন চাঁদ সদাগর। 
দেবী মনসা এবং চাঁদ সদাগরের সংঘর্ষের কথা আমরা অনেকেই শুনেছি। আসলেই তাঁর কাছে পূজা না পেলে এই সংসারে কখনোই তার পূজা হবেনা, আর এই সদাগর ছিল শিব ভক্ত। ফলে তিনি কোনমতেই মনসার পূজা করতে রাজি ছিলেন না। দেবী মনসার অনেক ধ্বংসলীলার পর সেই ব্যক্তি বাধ্য হয়ে মনসার দিকে না তাকিয়ে বাম হাতে তাঁর দিকে ফুল ছুড়েছিলেন। এরকম ভয়ানকভাবেই শুরু হয়েছিল মনসা পুজো। 





মানব সমাজের গতি অর্থাৎ প্রবাহমানতার মাধ্যম হলো সৃষ্টি। গর্ভবতী নারীর প্রতীক হিসেবে মনসা ঘট বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। যেখান থেকেই প্রাণের সঞ্চার হয়ে মানবজীবন ক্রমবিবর্তনের মাধ্যমে এগিয়ে চলেছে।  ‌ দেবী মনসার সন্তানের খুব বেশি উল্লেখ দেখা যায় না। আসলে ঋষি জরৎকারু এবং মনসার সন্তান ছিলেন আস্তিক। ‌ যার উল্লেখ রয়েছে মহাভারতে, সমস্ত সর্পকে হত্যা করতে রাজা পরীক্ষিতের পুত্র জনমেজয় এক সর্প যজ্ঞের আয়োজন করেছিলেন, সেখানে এসে তক্ষক সহ সমস্ত সর্পের প্রাণ রক্ষা করেছিলেন আস্তিক। তবে এর পিছনে রয়েছে এক বড় রহস্য, যদি আপনারা এই বিষয়ে আরো জানতে চান সেটা অবশ্যই কমেন্টে জানান।           লেখাটা ভালো লাগলে আমাদের ইউটিউব চ্যানেল অবশ্যই ঘুরে আসবেন, সেখানে পেয়ে যাবেন আরও অজস্র সুন্দর সুন্দর ভিডিও। ‌যা আপনাকে মন্ত্রমুগ্ধ করে দেবে    PuranKatha Official (1.3 Million Subscribers)

বৃহস্পতিবার, ৫ জুন, ২০২৫

জগন্নাথ মন্দিরের আসল রহস্য

পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের আসল রহস্য


এক এমন মন্দির, যা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মানুষের মনে বিস্ময়ের সৃষ্টি করেছে। বারংবার শত্রুদের আক্রমণ এবং লুটপাটের পরেও এই মন্দির আগের অবস্থাতেই রয়েছে। বিজ্ঞানীরা যখন জানতে পারে যে ভারতে এরকম একটি মন্দির আছে, তারা নানানভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা শুরু করে। কিন্তু এক সময় তারা যে জিনিস খুঁজে পায় , এর ফলে রীতিমত ভয় পেয়ে যায়। কি রয়েছে এই জগন্নাথ মন্দিরের আড়ালে ?     আপনাদের প্রিয় "পুরাণ কথা অফিসিয়াল" এর আজকের বিশেষ নিবেদন - জগন্নাথ পুরীর 10 টি অমীমাংসিত রহস্য 

 পুরী মানেই উত্তাল সমুদ্র , যার মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে হাজারো অজানা কথা। পুরী বেড়াতে এসেছেন অথচ জগন্নাথ দেবের দর্শন করেননি , এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। প্রত্যেকদিন দেশ-বিদেশ থেকে অসংখ্য ভক্তের সমাগম ঘটে এই মন্দিরে। শুধু কি পৌরাণিক মাহাত্ম্য ? না তার সঙ্গে রয়েছে এমন কিছু রহস্যময়তা, যা প্রাচীনকালের শত্রু থেকে শুরু করে আধুনিক যুগের বিজ্ঞানীদেরও নতমস্তক করেছে। জগন্নাথ শব্দের অর্থ জগতের নাথ বা এই সংসারের স্বামী। এজন্যই এই জায়গাকে জগন্নাথ পুরী বলা হয়। হিন্দুদের প্রমূখ চার ধাম এর মধ্যে অন্যতম পুরীর জগন্নাথ মন্দির। কথিত আছে, রাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন যিনি স্বয়ং ভগবান এর স্বপ্নাদেশ পেয়েছিলেন, তার মাধ্যমেই সূচনা হয় এই মন্দিরের। জগন্নাথ দেবের মূর্তি কে নিয়ে এত কাহিনী প্রচলিত আছে, যা হয়তো একটা ভিডিওতে বলা সম্ভবই নয়। এই মন্দিরের চূড়ার দিকে তাকালে দেখা যায় এক নীলা চক্র, যা অষ্ট ধাতু দিয়ে তৈরি। এর বিশেষত্ব হলো আপনি যে দিক থেকেই দেখুন না কেন সব সময় মনে হবে চক্রটি যেন ঠিক আপনার সম্মুখে রয়েছে, অর্থাৎ তার মুখ সামনের দিকে থাকে। এবং মন্দিরের চূড়ার পতাকা আরো  রহস্যজনক, কারণ এই পতাকা সব সময় হাওয়ার বিপরীত দিকে ওড়ে। আপনারা জানলে অবাক হবেন যে এই মন্দিরের উপর দিয়ে কোন বিমান তো দূরের কথা, কোন পাখিও উড়তে পারে না। এই অলৌকিক রহস্য সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিজ্ঞানীদেরও অবাক করেছে। এই মন্দিরের এক বড় রহস্য হলো সিংহদ্বারের সিড়ি, কথিত আছে জগন্নাথ দেবের বোন সুভদ্রা চেয়েছিলেন যে এই স্থানে যেন সবসময় শান্তি বিরাজ করে, যে কারনে আজও এই মন্দিরের সিংহদ্বারের সিড়ি পেরোলে বাইরের কোনো রকম আওয়াজ আর শোনা যায় না, এমনকি সমুদ্রের শব্দও আর কানে পৌঁছায় না। এই মন্দিরের সঙ্গে যুক্ত স্বয়ং বজরংবলী হনুমান, আপনারা হয়তো অনেকেই জানেন না যে পুরী মন্দিরের চারটি মূল দুয়ারে হনুমানজির চার মূর্তি রয়েছে, সিংহদুয়ার , উত্তর দুয়ার , দক্ষিণ দুয়ার এবং পাশ্চাত্য দুয়ার। বজরংবলি কেন এখানে বিরাজ করছেন, এবং তিনি এই মন্দিরের কোন দায়িত্ব পালন করছেন , আপনার যদি জানতে চান তাহলে এটা নিয়ে আমরা একটা আলাদা ভিডিও বানাবো। আমরা সবাই জানি যে সাধারণত দিনের বেলায় হাওয়া সমুদ্রের দিক থেকে তটের দিকে আসে, আর সন্ধ্যের সময় তটের দিক থেকে সমুদ্রের দিকে হাওয়া বয়ে যায়, কিন্তু পুরীর ক্ষেত্রে এর বিপরীত ঘটে, অর্থাৎ সকালে তটের দিক থেকে সমুদ্রের দিকে হওয়া চলে, আর সন্ধ্যায় সমুদ্রের দিক থেকে তটের দিকে হাওয়া বয়ে যায়। পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের ওপরের অংশে এক বিশেষ শক্তি রয়েছে, যে কারণে ভয়ানক ঝড় বৃষ্টি কিংবা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সময়ও মন্দিরের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয় না। মন্দিরের চূড়ায় যে ধ্বজা রয়েছে, তা প্রতিদিন পরিবর্তন করা হয়, কিন্তু ঘটনাটা সাধারণ নয়। কারণ যে ব্যক্তি এই কাজ করেন, তিনি সোজা ভাবে নয় বরং উল্টো ভাবে মন্দিরের চূড়ায় ওঠেন, তাও আবার কোন রকম সাহায্য ছাড়া। যারা এই দৃশ্য সামনাসামনি দেখেছেন শুধুমাত্র তারাই বুঝবেন এই ঘটনা কতটা অলৌকিক। যদি একদিনও এই নিয়মের ব্যতিক্রম হয় তাহলে পরবর্তী 18 বছর মন্দিরের পুজো বন্ধ থাকবে। 

সূর্যের অবস্থান যেদিকে হোক না কেন, পুরীর মূল মন্দিরটির ছায়া দিনের বেলায় দেখাই যায় না। যা আজও মানুষকে শিহরিত করে। পুরীর এই মন্দিরে শ্রী জগন্নাথ, বলরাম এবং সুভদ্রার যে বিগ্রহকে পুজো করা হয়, সেগুলি বিশেষ কাঠের তৈরি। প্রত্যেক 12 বছর অন্তর একটি গোপন রীতি মেনে জগন্নাথ বলরাম সুভদ্রা কে নতুন শরীর প্রদান করা হয়। অর্থাৎ নতুন রূপে তৈরি করা হয়, এই রীতিকে নবকলেবর বা পুনর্জন্ম বলা হয়। কথিত আছে শ্রীকৃষ্ণের তিরোধানের পর যখন তার শেষকৃত্য করা হয়েছিল, তাঁর শরীরের সব অংশ পঞ্চতত্ত্বে মিলিয়ে গেলেও হৃদয়ের কোন ক্ষতি হয়নি, ভগবানের নির্দেশেই সেই বস্তুটিকে পুরীর শ্রীমূর্তির মধ্যে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল। যাকে ব্রম্ভ বস্তু বা ব্রম্ভ পদার্থ বলে। এই ঘটনা নিয়ে হাজারো বিতর্ক রয়েছে, যা নিয়ে কেউ মুখ খুলতে রাজি না। যেদিন এই ব্রম্ভ পদার্থ নতুন মূর্তিতে স্থানান্তরিত করা হয়, সেদিন গোটা অঞ্চল জুড়ে ব্ল্যাক আউট করে দেওয়া হয়। নিঃশব্দে সেরে ফেলা হয় এই কাজ। কিন্তু কেন? তা আজও অজানা। 

 

 

 


জগন্নাথ দেবের বিগ্রহ তো বটেই, তার প্রসাদও ঠিক ততটাই রহস্যময়। সারা বছর ধরেই সমপরিমাণ প্রসাদ রান্না করা হয়, কিন্তু ওই একই পরিমাণ প্রসাদ দিয়ে হাজার মানুষ হোক কিংবা লক্ষাধিক মানুষ, তবুও প্রসাদ কখনো নষ্ট হয় না বা কখনো কম পড়ে না।    পৃথিবীর বেশিরভাগ মন্দিরেই উপোস করে পুজো অর্চনা করা হয়, কিন্তু পুরীর জগন্নাথ মন্দির  এক এমন মন্দির, যেখানকার রীতি অনুযায়ী ভক্তরা খাওয়া-দাওয়া করার পর পূজা-অর্চনা করেন। এমনটা মান্যতা রয়েছে যে মন্দিরের রান্নাঘরে যখন জগন্নাথদেবের মহাপ্রসাদ বানানো হয়, তখন এই কাজের পরিচালনা করেন স্বয়ং মা লক্ষ্মী। আর এই প্রসাদ স্বয়ং মা অন্নপূর্ণা বানান। সম্পূর্ণ শাকাহারি এই ভোগ বানানো হয় মাটির পাত্রে। এখানে একটি পাত্রের উপর আরেকটি এমন করে মোট সাতটি পাত্র আগুনে বসানো হয়, কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো যে পাত্রটি সবচেয়ে উপরে বসানো থাকে, অর্থাৎ আগুন থেকে সবচেয়ে দূরে থাকে। সেই পাত্রের রান্না সবার আগে হয়। আর নিচের পাত্রে রান্না সবচেয়ে দেরিতে হয়। সমুদ্রের তটে অবস্থিত পুরীতে কোথাও নদীর চিহ্নমাত্র নেই, কিন্তু আপনি জানলে অবাক হবেন যে পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের রান্নাঘরে একটি বিশেষ কুয়োতে রয়েছে গঙ্গা নদীর প্রবাহ। মন্দিরে রয়েছে এক গোপন অংশ, যেখানে দেবতাদের সমস্ত অলংকার এবং মূল্যবান দ্রব্য রাখা রয়েছে। এই বিশেষ কক্ষের রক্ষণাবেক্ষণ করে কয়েকটি অদ্ভুত আকারের বিষধর সাপ এবং স্বর্গীয় আত্মা। বহুবার শত্রুদের আক্রমণ এবং ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পরেও কিভাবে এই মন্দির আজও আগের অবস্থাতেই রয়েছে , এটা ভাবলেও আমরা চমকে উঠি। সত্যি দৈবিক লীলার সামনে সবাই অসহায়। সবাই কমেন্টে লিখুন জয় জগন্নাথ 🙏 আপনারা কি কখনো পুরীর এই অলৌকিক মন্দিরে গিয়েছেন ?    লেখাটা ভালো লাগলে আমাদের ইউটিউব চ্যানেল অবশ্যই ঘুরে আসবেন, সেখানে পেয়ে যাবেন আরও অজস্র সুন্দর সুন্দর ভিডিও। ‌যা আপনাকে মন্ত্রমুগ্ধ করে দেবে    PuranKatha Official (1.3 Million Subscribers)

Link  https://www.youtube.com/channel/UCw4iBakNHvzMa_8JtQvWLiQ

 -