শুক্রবার, ৬ জুন, ২০২৫

মা মনসা দেবীর আসল রহস্য

মা মনসার অলৌকিক রহস্য

 

মা মনসা হিন্দু ধর্মের এক প্রধান দেবী। সর্পদংশন এর হাত থেকে রক্ষা পাওয়া, ঐশ্বর্য লাভ এবং সন্তান লাভের জন্যই মূলত দেবীর আরাধনা করা হয়। কিন্তু আমরা অনেকেই মা মনসা সম্পর্কে অনেক কিছু জানি না । দেবীর পুজো প্রথমে কেউ করতে চাইত না কেন? দেবীর এক চোখ অন্ধ কেন ? তার জন্মই বা কিভাবে হয়েছিল? এরকমি হাজারো প্রশ্ন ঘিরে রয়েছে মা মনসার ইতিহাস। আপনাদের প্রিয় "পুরাণ কথা অফিসিয়াল" এর আজকের বিশেষ নিবেদন - দেবী মনসার 10 টি অজানা তথ্য, যা আজকের সময়ে বেশি আলোচনা করা হয় না।



দেবী মনসার জন্ম নিয়ে রয়েছে হাজারো বিতর্ক। হিন্দু পুরাণে তাকে ঋষি কশ্যপ এবং নাগ জননী কদ্রুর কন্যা বলা হয়েছে। সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্মার আদেশেই ঋষি কশ্যপের মন থেকে এক বিশেষ দেবীর সৃষ্টি হয়েছিল, যার নাম হয় মনসা। তবে মঙ্গলকাব্যে বলা হয়েছে যে মনসার পিতা হলেন ভগবান শিব। 
প্রথম থেকেই দেখা গেছে যে মনসা অত্যন্ত হিংস্র এবং প্রতিশোধমূলক দেবী ছিলেন, তিনি তাঁর পূজা লাভের জন্য অনেক নিষ্ঠুর কাজ করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে তিনি ঠিক এর বিপরীত হয়ে গিয়েছিলেন। 
বিভিন্ন পৌরাণিক তথ্যে বলা আছে যে ছোট থেকেই মনসার লালন পালন করেছিলেন নাগরাজ বাসুকি, আসলেই তাঁর একটি বোনের ইচ্ছে ছিল , এ নিয়ে তিনি ভগবান শিবের কাছে আবেদন করেছিলেন। মহাদেব তার পরম ভক্তের উপর কৃপাদৃষ্টি বর্ষণ করেছিলেন।  
মনসাবিজয় কাব্যে লেখা আছে যে একবার নাগমাতা কদ্রু একটি বালিকার মূর্তি নির্মাণ করেছিলেন। সেই মুহূর্তেই ভগবান শিবের রশ্মি নির্গত হলে তা থেকে মনসার জন্ম হয়েছিল। এরপর বাসুকি তাকে ভগিনী বলে স্বীকার করে নেন। 
 
 
 
 
 
দেবী মনসার বিবাহ নিয়ে রয়েছে একাধিক মতবাদ। তবে সবথেকে গ্রহণযোগ্য তথ্য অনুসারে তার বিবাহ হয়েছিল মহামুনি জরৎকারুর সঙ্গে। তবে তিনি এই শর্তে মনসা কে বিবাহ করেছিলেন, যে যদি মনসা কোন কারণে অবাধ্য হয়, তাহলে তিনি মনসা কে ত্যাগ করবেন।
দেবতা এবং অসুররা অমৃত লাভের জন্য যখন সমুদ্র মন্থন করছিলেন, তখন সেখান থেকে হলাহল নামক এক ভয়ানক বিষ বেরিয়ে আসে। যার প্রকোপে সবার প্রাণহানি ঘটতে থাকে। তখন ভগবান শিব নিজের গলায় এই বিষ ধারণ করেছিলেন। এই বিষের কারণে তাঁর গলার রং হয়ে যায় নীল, যে কারণে তার নাম হয় নীলকন্ঠ। কিছু পৌরানিক তত্ত্বে বলা আছে যে এই সময় ভগবান শিবকে বিষের প্রকোপ থেকে রক্ষা করেছিলেন দেবী মনসা। তখন থেকেই তার নাম হয় বিষহরি‌।
 
 

 
কথিত আছে একবার দেবী চণ্ডী এবং মনসার মধ্যে সংঘাত হয়েছিল। ভগবান শিবের সঙ্গে মনসাকে দেখে দেবী চণ্ডী সন্দেহ করেছিলেন, কারণ এর আগে তিনি কখনো মনসাকে দেখেননি। এই সংঘর্ষ এতই বেড়ে যায়, যে দেবী চণ্ডী ক্রুদ্ধ হয়ে মনসার একটি চোখ অন্ধ করে দিয়েছিলেন। যদিও অনেক জায়গায় বলা আছে যে মনসার খারাপ আচরণের জন্য চন্ডী এই কাজ করেছিলেন। এজন্যই মনসামঙ্গল কাব্যে মনসাকে চেঙমুড়ী কানি বলেছিলেন চাঁদ সদাগর। 
দেবী মনসা এবং চাঁদ সদাগরের সংঘর্ষের কথা আমরা অনেকেই শুনেছি। আসলেই তাঁর কাছে পূজা না পেলে এই সংসারে কখনোই তার পূজা হবেনা, আর এই সদাগর ছিল শিব ভক্ত। ফলে তিনি কোনমতেই মনসার পূজা করতে রাজি ছিলেন না। দেবী মনসার অনেক ধ্বংসলীলার পর সেই ব্যক্তি বাধ্য হয়ে মনসার দিকে না তাকিয়ে বাম হাতে তাঁর দিকে ফুল ছুড়েছিলেন। এরকম ভয়ানকভাবেই শুরু হয়েছিল মনসা পুজো। 





মানব সমাজের গতি অর্থাৎ প্রবাহমানতার মাধ্যম হলো সৃষ্টি। গর্ভবতী নারীর প্রতীক হিসেবে মনসা ঘট বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। যেখান থেকেই প্রাণের সঞ্চার হয়ে মানবজীবন ক্রমবিবর্তনের মাধ্যমে এগিয়ে চলেছে।  ‌ দেবী মনসার সন্তানের খুব বেশি উল্লেখ দেখা যায় না। আসলে ঋষি জরৎকারু এবং মনসার সন্তান ছিলেন আস্তিক। ‌ যার উল্লেখ রয়েছে মহাভারতে, সমস্ত সর্পকে হত্যা করতে রাজা পরীক্ষিতের পুত্র জনমেজয় এক সর্প যজ্ঞের আয়োজন করেছিলেন, সেখানে এসে তক্ষক সহ সমস্ত সর্পের প্রাণ রক্ষা করেছিলেন আস্তিক। তবে এর পিছনে রয়েছে এক বড় রহস্য, যদি আপনারা এই বিষয়ে আরো জানতে চান সেটা অবশ্যই কমেন্টে জানান।           লেখাটা ভালো লাগলে আমাদের ইউটিউব চ্যানেল অবশ্যই ঘুরে আসবেন, সেখানে পেয়ে যাবেন আরও অজস্র সুন্দর সুন্দর ভিডিও। ‌যা আপনাকে মন্ত্রমুগ্ধ করে দেবে    PuranKatha Official (1.3 Million Subscribers)

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন