সোমবার, ২৩ জুন, ২০২৫

কামাখ্যা মন্দিরের এই গোপন রহস্যগুলি কেউ জানে না

       কামাখ্যা মন্দিরের রহস্য

 

 

ভারতবর্ষে একাধিক চমৎকারী মন্দির রয়েছে, সেখানে এমন কিছু ঘটনা ঘটে, যাকে বিজ্ঞান অব্দি নজরন্দাজ করতে পারেনা। দেবী সতীর ৫১ শক্তিপীঠ সম্পর্কে আপনারা সকলেই শুনেছেন, কিন্তু আজ আমি আপনাদের এক এমন শক্তিপীঠ সম্পর্কে বলব, যেখানকার রহস্য দেখে শুধু সাধারণ মানুষ নয়, বিজ্ঞানীরাও তটস্থ। দেবী মায়ের এক এমন মন্দির আছে, যেখানে এটি প্রস্তর খণ্ড থেকে রক্ত নির্গত হয়। ‌ আর সেই সময় মন্দিরের পার্শ্ববর্তী নদীর রং লাল হয়ে যায়। এই রহস্যের কথা শুনে বিজ্ঞানীরা সেখানে গিয়েছিলেন, এরপর তারা মাতার যে চমৎকার দেখতে পান, তা দেখে স্তব্ধ হয়ে যান। ঠিক কি ঘটেছিল তাদের সাথে সবটাই জানাবো আজকে... আপনাদের প্রিয় "পুরাণ কথা অফিসিয়াল" এর আজকের বিশেষ নিবেদন - কামরূপ কামাখ্যা মন্দিরের রহস্য!

 


 


কামরূপ কামাখ্যা এই শব্দে দুটির মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে হাজারো রহস্য। আসামের কামাখ্যা মন্দির শুধু এদেশেই নয় , সমগ্র বিশ্বে প্রসিদ্ধ। এই জায়গাকে তান্ত্রিক অঘোরীদের সিদ্ধপীঠ বলে মনে করা হয়। বাংলার আষাঢ় মাসে এখানে অম্বুবাচী মেলা বসে, যেখানে ভিড় হয় লক্ষাধিক মানুষের। দেবী কামাখ্যা এবং এই তীর্থস্থানকে নিয়ে ছড়িয়ে রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন মতবাদ, এই স্থানে এমন কিছু ঘটনা ঘটে যা শুনলে আপনারা শিউরে উঠবেন। কোন পুরুষ সেখানে একবার গেলে আর নাকি ফিরে আসে না , এমনই কিছু কথা প্রচলিত রয়েছে। 


 

এটা তো আপনারা সকলেই জানেন যে ভারতের সবচেয়ে প্রাচীন শক্তিপীঠগুলির মধ্যে কামাখ্যা অন্যতম। কথিত আছে দক্ষ যজ্ঞ বিনাশের পর যখন ভগবান শিব সতীর দেহ কে নিয়ে তান্ডব করছিলেন, তখন দেবতাদের প্রার্থনায় ভগবান বিষ্ণু সংসারকে রক্ষা করেছিলেন। তিনি সুদর্শন চক্র প্রয়োগ করে সতীর দেহ কে 51 টি অংশে কেটে ফেলেছিলেন, যেগুলি পৃথিবীর ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় পতিত হয়েছিল। এই কামাখ্যায় দেবী সতীর যোনিদেশ পতিত হয়েছিল, যা পরে প্রস্তরীভূত হয়ে যায়। ইতিহাস থেকে জানা যায় যে আজ থেকে অনেক বছর আগে নীলাচল পর্বতে মোঙ্গল আক্রমণ এ প্রথম তান্ত্রিক কামাখ্যা মন্দির ধ্বংস হয়েছিল। তারপর বেশ কয়েকবার পুনঃনির্মিত হয়েছে এই প্রাচীন মন্দির। তবে এই নিয়ে ভিন্ন মতবাদ প্রচলিত রয়েছে। 

 


সারা ভারতের ভক্তরা অম্বুবাচীর সময়ে জমায়েত হন এই মন্দির চত্বরে। সাধু সন্ন্যাসীর ভিড়ে কামাখ্যা মন্দির জমজমাট হয়ে থাকে। এই জায়গাকে নিয়ে বিভিন্ন কথার প্রচলন রয়েছে, রহস্যময় জাদু মন্ত্র এবং ঘন অরণ্য দেশ হিসেবে আলোচনার কেন্দ্রস্থল কামরূপ কামাখ্যা। কোন পুরুষ সেখানে একবার গেলে ফিরে আসা কঠিন। এখানে অনেক ধরনের কালো জাদু এবং তন্ত্র চর্চা হয়ে থাকে। এই মন্দিরে দশমহাবিদ্যার আরাধনাও করা হয়, এর মধ্যে ত্রিপুরাসুন্দরী, মাতঙ্গী এবং কমলা প্রধান মন্দিরে পূজিত হন। অন্যান্য দেবীদের জন্য পৃথক মন্দির আছে। কামাখ্যা মন্দিরে প্রধান চারটি কক্ষ আছে, গর্ভগৃহ এবং তিনটি মন্ডপ। 

 


অম্বুবাচীর সময় মাতা ধরিত্রী রজস্বলা হবার প্রতীক হিসেবে এখানে বিশেষ পূজা অনুষ্ঠিত হয়। যদিও মূল মন্দিরের দরজা বন্ধ রাখা হয়। এই মন্দিরের গর্ভগৃহ আসলে ভূগর্ভস্থ একটি গুহা , যেখানে প্রায় 10 ইঞ্চি গভীর একটা গর্ত তথা কুন্ড দেখা যায়, যেখান থেকেই প্রাকৃতিক জল নিঃসরণ হতে থাকে। যা অম্বুবাচীর সময় লাল রঙের হয়ে যায়, এটা নিঃসন্দেহে এক অলৌকিক ঘটনা। মন্দিরের মধ্যে এক বড় সাদা কাপড় বিছিয়ে দেওয়া হয়, যা তিনদিন পর লাল রঙের হয়ে যায়। এই রক্ত বস্ত্র ভক্তদের মধ্যে প্রসাদ রূপে দেওয়া হয়। কালিকা পুরাণ অনুসারে কামাখ্যায় পূজা করলে মানুষের সমস্ত ইচ্ছে পূর্ণ হয়, প্রাচীনকাল থেকে এখানে বলিদান প্রথা চলে আসছে। দেবী কামাক্ষার পুজো বামাচার এবং দক্ষিণাচার উভয় মতেই করা হয়। মন্দির চত্বরের গাছে হলুদ লাল মন্ত্রপূতঃ দাগা বাধা থেকে শুরু করে তন্ত্র সাধনা - সবকিছুর কেন্দ্র এই শক্তিপীঠ। বহু অঘোরী সাধু কেউ দেখা যায় মন্দির চত্বরে, দেবীর আরাধনা করে সিদ্ধি লাভ করতে মুখিয়ে থাকেন অনেকেই। তবে শুনতে যেমন লাগে, এই জিনিস তার থেকে অনেক বেশি গভীর এবং ভয়ানক। আপনারা যদি তন্ত্র সাধনা এবং এর প্রাচীন দেব-দেবী সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান, সেটা অবশ্যই কমেন্টে জানান।

লেখাটা ভালো লাগলে আমাদের ইউটিউব চ্যানেল অবশ্যই ঘুরে আসবেন, সেখানে পেয়ে যাবেন আরও অজস্র সুন্দর সুন্দর ভিডিও। ‌যা আপনাকে মন্ত্রমুগ্ধ করে দেবে    PuranKatha Official (1.3 Million Subscribers)

Link  https://www.youtube.com/channel/UCw4iBakNHvzMa_8JtQvWLiQ



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন