সোমবার, ৯ জুন, ২০২৫

মন্দির বা দেবালয়ে শৌচালয় বানানো হয় না কেন ?

       মন্দিরে শৌচালয় বানানো হয় না কেন?

 বন্ধুরা হিন্দু ধর্মে পূজার এক আলাদা মাহাত্ম্য রয়েছে। আমরা সকলেই মন্দিরএ যাই ভগবানের আশীর্বাদ লাভের আশায়। মন্দিরে গেলে আমরা সকলেই দেখতে পাই ভগবান বিভিন্ন রকম বস্ত্র পরিধান করে রয়েছেন এবং তাদের আহারের জন্য বহু রকম ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে। কিন্তু আমরা কখনও এটা ভেবে দেখেছি কি ভগবানের জন্য যখন সবরকম ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে তাহলে শৌচালয়ের ব্যবস্থা কেন করা হয় না? আপনাদের প্রিয় "পুরাণ কথা অফিসিয়াল" এর আজকের বিশেষ নিবেদন - মন্দির বা দেবালয়ে শৌচালয় থাকে না কেন ?

 


আজ আমরা জানতে পারব যে ভগবানের জন্য যখন সবরকম ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে তাহলে শৌচালয়ের ব্যবস্থা কেন করা হয় না? হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী আমরা জেনে থাকি দেবতাদের শরীর আমাদের মানব জাতির থেকে একেবারেই আলাদা। আমি বা আপনি আমরা সাধারন মানুষ খিদে পেলে তখনই আমরা খাবার গ্রহণ করি কিন্তু ভগবানের ব্যাপারটা পুরোপুরি আলাদা! আমরা নিজেদের ইচ্ছা পূরণের জন্যে ভগবানকে ভোগ নিবেদন করে থাকি। কিন্তু আসলে ভগবান কি সেটা খেয়ে থাকেন? 

 

একেবারেই না । ভগবান কোনদিনই আমাদের নিবেদিত খাবার খান না। তাহলে এখন প্রশ্ন হল ভগবান যখন আমাদের নিবেদিত খাবার খান না, তাহলে আমরা ভগবানকে ভোগ নিবেদন করি কেন? বন্ধুরা আমরা মনুষ্য জাতি খাবার খেয়ে তাতে আমরা তৃপ্ত হই কিন্তু ভগবানের বেলায় ব্যাপারটা একেবারেই আলাদা। ভগবান আমাদের নিবেদিত খাবার খান না ঠিকই কিন্তু খাবারের সুগন্ধ অনুভব করেই ভগবান তৃপ্ত হন। তাহলে এখন বলা যেতেই পারে যে ভগবান যখন খাবার গ্রহণ করেন না তাহলে মন্দিরে শৌচালয়ের প্রয়োজনীয়তা কোথায়? তাহলে এটাই কারণ যে মন্দিরে ভগবানের খাবার এবং শয়নের ব্যবস্থা অবশ্যই করা হয় কিন্তু কোন শৌচালয় ভগবানের জন্য নির্মাণ করা হয় না।

 


 বন্ধুরা হিন্দু শাস্ত্রে আমরা এই ঘটনার অনেক প্রমান পেয়ে থাকি যে ভগবান ভোজনের নয় ভক্তের ভক্তির প্রমাণ নিয়ে থাকেন। পুরাণের বিভিন্ন কাহিনীতে ভক্তের ভক্তির প্রমাণ আমরা পেয়ে থাকি।  ভগবান রাম তার একনিষ্ঠ ভক্ত শবরীর আশ্রম এ গিয়েছিলেন। শবরী ভগবান রামের জন্য অনেক বছর ধরে প্রতীক্ষা করছিলেন। ভগবান রামের আগমন সংবাদ পেয়ে শর্বরী তারপর  কুটির কে ফুল দিয়ে সাজিয়েছিলেন। বন থেকে বেছে বেছে সেরা ফলগুলি শর্বরী ভগবান রামের জন্য নিয়ে এসেছিলেন। ফলগুলো প্রত্যেকটা ফল ভালো হবে কিনা সেটা যাচাই করার জন্য শবরী প্রত্যেকটা ফল নিজে আগে খেয়ে দেখেছিলেন। সেই কারণে ভগবান রাম ফলগুলো খাবার সময় এটা কখনোই ভাবেনি যে ফলগুলো এঁটো ছিল। তিনি শুধু শবরীর ভক্তিভাবে প্রমাণই এর মধ্যে পেয়েছিলেন। সেই কারণে তিনি এঁটো ফলগুলি খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন।

 


সেইরকমই ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বিদুরের ঘরের সাধারণ খাবার পছন্দ করেছিলেন। আর অহংকারে ভরা দুর্যোধনের ছাপান্ন ভোগ দূরে সরিয়ে দিয়েছিলেন। এই ঘটনার বর্ণনা ভগবদ্গীতায় করা হয়েছে। ভগবদ্গীতার ঘটনা অনুযায়ী  তিনি শুধু হস্তিনাপুরের মন্ত্রী ছিলেন না তিনি ভগবান কৃষ্ণের উপাসক ও ছিলেন। তিনি একজন উচ্চকোটির সাধু ছিলেন এবং স্পষ্টবাদী ছিলেন... সেই কারণে দুর্যোধনের সাথে তার বনিবনা হতো না । আর দূর্যোধন তাকে কারণে-অকারণে অনেক অপমান করতেন । কিন্তু  পিতামহ ভীষ্ম এবং ধৃতরাষ্ট্র এর ভালোবাসার কারণে বিদুর এসব গায়ে মাখতেন না। হস্তিনাপুরের প্রধানমন্ত্রী হওয়া সত্বেও বিদুরের চালচলন পোশাক-আশাক এবং খাবার দাবার খুবই সাদাসিধে ছিল তিনি একজন সাধারন মানুষের মতো জীবনযাপন করতেন। ভগবান কৃষ্ণ যখন দূত হয়ে হস্তিনাপুরে সন্ধির প্রস্তাব নিয়ে আসেন তখন দুর্যোধন তার প্রস্তাব অস্বীকার করেন। তারপর তিনি কৃষ্ণকে সেখানে রাত্রি বাস করার জন্য এবং ভোজনের জন্য অনুরোধ করেন। কিন্তু দুর্যোধনের অহংকার পূর্ণ ব্যবহারের জন্য শ্রীকৃষ্ণ তার এই প্রস্তাব অস্বীকার করেন। দুর্যোধনের প্রস্তাব অস্বীকার করার জন্য যখন দূর্যোধন শ্রীকৃষ্ণকে জিজ্ঞাসা করলেন যে কেন তিনি তার আতিথ্য অস্বীকার করেছেন ।তার উত্তরে ভগবান কৃষ্ণ বলেছিলেন যে , হে দূর্যোধন কারোর কোনো প্রস্তাব স্বীকার করার জন্য তিনটি প্রধান জিনিস অত্যন্ত জরুরী। সেগুলি হল ভাব ,প্রভাব এবং অভাব। প্রথমত তোমার ব্যবহার এমন নয় বা তোমার ভাব এমন নয় যে তোমার আতিথ্য স্বীকার করা যাবে দ্বিতীয়তঃ তোমার এত প্রভাবও নেই যে  তোমাকে ভয় পেয়ে আমি তোমার আতিথ্য স্বীকার করব। আর তৃতীয়তঃ আমার এত অভাব নেই যে বাধ্য হয়ে আমি তোমার মত  ব্যক্তির আতিথ্য স্বীকার করব। এই কথা বলার পর ভগবান কৃষ্ণ সেখান থেকে  প্রস্থান করলেন এবং তিনি মহাত্মা বিদুরের কুটিরে এসে উপস্থিত হন  যেখানে বিদুর তাকে তার সঙ্গে ভোজনের জন্য নিমন্ত্রণ করলেন। সেই খাবার খুব সাধারণ হলেও বিদুরের মনে শ্রীকৃষ্ণের জন্য যে ভক্তি ও প্রেম ছিল সেটার জন্যই ভগবান কৃষ্ণ বিদুরের কাছে তার সাধারণ ভোজন গ্রহণ করেছিলেন। 

 


 এই দুটো ঘটনা থেকে আমরা এটাই বুঝতে পারি যে ভগবান ভক্তের কাছ থেকে ভোজনের নয় মনের ভক্তি ভাবের আকাঙক্ষা করে থাকেন। যদি কোন ভক্ত নিজের পূর্ণ ভক্তি দিয়ে ভগবানকে ডাকেন তবে ভগবান অবশ্যই তার মনস্কামনা পূরণ করেন। আজকে এই পর্যন্তই।তাহলে আপনারা বুঝতে পারলেন যে ভগবানের মন্দিরে শৌচালয়ের ব্যবস্থা কেন থাকে না... 

লেখাটা ভালো লাগলে আমাদের ইউটিউব চ্যানেল অবশ্যই ঘুরে আসবেন, সেখানে পেয়ে যাবেন আরও অজস্র সুন্দর সুন্দর ভিডিও। ‌যা আপনাকে মন্ত্রমুগ্ধ করে দেবে →   PuranKatha Official (1.3 Million Subscribers)

Link →  https://www.youtube.com/channel/UCw4iBakNHvzMa_8JtQvWLiQ

 


 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন